
শিক্ষকদের পদোন্নতি জটিলতা, প্রশাসনিক ও আইনি সমস্যার সমাধানের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) এর শিক্ষকরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে এবং ২২ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘একাডেমিক শাটডাউন’ কার্যকর হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করবেন।
এর আগে একই দাবিতে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন ২৪ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচি পালন করেন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি অনশন ভঙ্গ করেন, যখন অন্যান্য শিক্ষকরা তার দাবির প্রতি সংহতি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, পদোন্নতি ইস্যুতে উপাচার্যের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইতোমধ্যে পদোন্নতি পেলেও এখানে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুসারে পদোন্নতির জন্য সিলেকশন বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা আসায় প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সিন্ডিকেট অনুমোদিত নিয়মেই পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু নতুন নির্দেশনার কারণে সেই প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ২৫টি বিভাগের অনেকগুলোতেই মাত্র ৩-৪ জন শিক্ষক দিয়ে একাধিক ব্যাচ পরিচালনা করতে হচ্ছে। এছাড়া ইউজিসি অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
শিক্ষক সমাজের দাবি, পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এ কর্মসূচির প্রতি ১০২ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করে সমর্থন জানিয়েছেন।



