
দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ কিছুদিন যাবৎ মসজিদের গ্রাউন্ড তৈরীর কাজ চলমান। মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী মসজিদটির সিসি ঢালাই দেওয়ার সময় ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ্য করে স্থানীয় জনতা। এক পযার্য়ে স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ঢালাই কাজ বন্ধ করে দেয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নিম্ন মানের নিমার্ণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। বিক্ষুব্ধ জনতা আরও জানান, ঢালাইয়ের খনন কাজ ১.৫—২.০০ মিটার কম করা হয়েছে। মসজিদটির গ্রাউন্ডে বালু ফিলিং করার কথা থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের বালু ফিলিং করা হয়নি। ঢালাইয়ে নেটিং করা বিহীন খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সেগুলোকে খোয়া নয় বরং রাবিসের মতো দেখা যাচ্ছে। সেই সাথে ম্যানুয়ালে পিকিট, ঝামা ইটের খোয়া ব্যবহার করার কথা থাকলেও খোয়া তৈরীতে নিম্ন মানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সিসি ঢালাই ম্যানুয়ালে সিমেন্ট,বালু এবং খোয়া ১ ঃ ৩ ঃ ৬ ঢালাই করার নির্দেশনা থাকলেও মানা হয়নি নির্দেশনাটি। ঢালাই বালু, খোয়ার সাথে সামান্য পরিমান সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে এবং ঢালাই শেষে উপর থেকে বালু ও সিমেন্টের সংমিশ্রণ ছিটিয়ে সেখানে নিম্ন মানের কাজ করা হচ্ছে। একই সাথে নেটিং করা বিহীন বালু দিয়ে ঢালাই কাজ করা হচ্ছিলো। উক্ত বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিমউদ্দিন গোলাপ জানান, ঢালাই যে লাল হয়, আমি তো কল্পনা করতে পারি নাই। পরে দেখলাম যে, নেটিং বিহীন ৩নং ইটের খোয়া ব্যবহার করছে। খোয়া ভাঙ্গার সময় ইটগুলো ডাস্টে পরিণত হয়েছে, সেটি দিয়েই সিসি ঢালাই দিচ্ছে। অনেকদিন পর মডেল মসজিদ চিরিরবন্দরে হচ্ছে, এটা আমাদের স্বপ্ন। এতদিন জায়গা নিয়ে জটিলতা ছিল। এখন জায়গা জটিলতা শেষে মসজিদটির কাজ শুরু হয়েছে, তাতেও বহু অনিয়ম, এটা আমরা মেনে নেব না। আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি, তারা এটির সমাধান না দেওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু হবে না। উক্ত বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একজনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ১ ঃ ৩ ঃ ৬ ঢালাই এ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের সাথে কথা বললে, তারা জানান আমরা এ বিষয় কিছুই জানিনা। এই পরিস্থিতিতে উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবি মডেল মসজিদটি যেন নিয়ম মেনে সঠিকভাবে তৈরী করা হয়।



