
পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধিঃ রাজবাড়ীর পাংশায় সিজারিয়ান অপারেশনের পাঁচ দিন পর এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। লিজা হেল্থ কেয়ার নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ অপারেশন করা হয়। ভূল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ প্রসূতি নারীর স্বজনদের। নিহত নারীর নাম মোছা. রেহেনা বেগম (৩৫)। তিনি উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাঝাইল গ্রামের ওয়াজকুরুনী বিশ্বাসের স্ত্রী। তবে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের।
সরেজমিনে গেলে নিহত নারীর পরিবার জানায়, গত বুধবার (২৪ জানুয়ারী) বিকালে সিজারের জন্য রেহেনা বেগমকে পাংশা মাগুডাঙ্গী এলাকার হাউজ অফ নূরুল ইসলাম নামের একটি ভবনে অবস্থিত লিজা হেল্থ কেয়ারে ভর্তি করা হয়। তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। জন্ম নেয় একটি ছেলে সন্তান। পারে প্রসূতি নারী রেহেনা বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে ফরিদপুর পাঠানো হয়। সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার দুপুরে মারা যান রেহেনা বেগম ।
নিহত রেহেনা বেগমের স্বজনরা জানান, লিজা হেল্থ কেয়ারে রেহেনা বেগমের দুইবার অপারেশন করা হয়েছে। রেহেনা গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে জানতে পারেন অপারেশনের সময় তার প্রশাবনালী কেটে ফেলা হয়েছে। তাদের দাবি পাংশার লিজা হেল্থ কেয়ার থেকে ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত রেহেনার স্বামী ওয়াজকুরুনী বিশ্বাস বলেন, স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনা বিশ্বাস আমাকে ফোন করে লিজা হেল্থ কেয়ারে ডেকে নিয়ে যায় এবং বলে আমার ছেলের ভবিষ্যতের জন্য পরে হেল্প করবে। এখন আমাদের এ বিষয় নিয়ে কোন অভিযোগ নেই।
এ বিষয়ে পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রব মুনা বিশ্বাস বলেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তারা ক্লিনিকের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে নিহতের পরিবারকে কিছুটা হেল্প করবে।
এ বিষয়ে জানাতে লিজা হেল্থ কেয়ারে ম্যানেজার নিতাইয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিহত ওই নারীর সিজারিয়ান অপারেশন আমাদের ক্লিনিকে হয়েছে। তার অপারেশনে কোন তত্রুটি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই নারীর অপারেশন করেছেন ডাঃ শাহজাহান এস মোয়েব।এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন। পরে মালিক পক্ষে স্বারা পেয়ে স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান তিনি। এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপর কুমার মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগই পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আহম্মেদ তিথি বলেন, বিষয়টি ফেসবুরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমরা লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



