আজ সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ গ্রীষ্মকাল, ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

কাঠমান্ডুতে উৎসবমুখর আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বিপুল উৎসাহ আর উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বর্ণিল এই আয়োজনে মিলেছিল বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের টান।

শুক্রবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশনপ্রধান, নেপাল সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নেপালি ব্যবসায়ী নেতা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের পরিবার অংশ নেন। সার্কের মহাসচিব গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, মিশরসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি আন্তর্জাতিক মাত্রা পায়। 

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পহেলা বৈশাখের উৎপত্তি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই উৎসব বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হালখাতা ও নতুন সূচনার আহ্বান নিয়ে এই দিনটি মানুষের জীবনে ফিরে আসে।

ধর্মীয়, সামাজিক ও ভৌগোলিক বিভাজন পেরিয়ে এটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে এই উৎসব পালিত হয়, যা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে জোরদার করে। এ সময় তিনি চর্যাপদের প্রসঙ্গ টেনে আঞ্চলিক বাংলা ভাষার প্রাচীন ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশ ও নেপালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিল তুলে ধরে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটনের গুরুত্ব উল্লেখ করেন।

গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্যে সার্কের মহাসচিব বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক বিনিময় দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করে। বৈচিত্র্যের মধ্যেও সম্প্রীতির এই উৎসব গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় নববর্ষের আবহ তৈরি হয়। বাংলা ও নেপালি গানের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন।

নেপালি শিল্পী সাবু লামা ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে বাংলা গান উপভোগ করেন অতিথিরা। পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও অংশ নেন পরিবেশনায়। শিশুদের খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। 

দূতাবাস প্রাঙ্গণ সাজানো হয় ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি সামগ্রী দিয়ে। নকশী কাঁথা, জামদানীসহ বিভিন্ন শাড়ির প্রদর্শনী ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অতিথিদের পরিবেশন করা হয় পান্তা ইলিশ, বিভিন্ন পিঠা ও মিষ্টান্ন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও নেপালের সৌর পঞ্জিকা ও নববর্ষ উদযাপনের মিল তুলে ধরা হয়। উল্লেখ করা হয়, দুই দেশেই এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে নববর্ষ পালিত হয়, যা অভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

আরও পড়ুন

একটি মন্তব্য করতে পারেন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

- বিজ্ঞাপন -spot_img