
আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা ও সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বুধবার (২০ মে) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, আজ দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য লজ্জার। দ্রুত ট্রাইবুন্যাল গঠনের মাধ্যমে হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, আপনার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর) বিবেক জাগ্রত হয় না, আপনার বিবেক কাঁদে না? সংবিধান ছেড়ে আগে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।
রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
রামিসার পরিবার গণমাধ্যমকে জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মা পারভীন ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে দেখেন রামিসার পায়ের একটি জুতা পড়ে আছে। তখন পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে বন্ধ দরজাটি তখন খোলা হচ্ছিল না। অনেক সময় ধরে নক করা হলেও দরজা খোলা হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রামিসার মরদেহ পায়।
অন্যদিকে ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।



